Copyright 2018 - Custom text here

সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিস

User Rating: 5 / 5

Star ActiveStar ActiveStar ActiveStar ActiveStar Active
 

 

 

 

সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিস  হল এক ধরনের বাত, যার ফলে গোত্রের ব্যথা, ফুলে যাওয়া, এবং গিড়া জমাট হয়ে থাকে। সেরিয়াসিস একটি দীর্ঘস্থায়ী ত্বকের অবস্থা, যার ফলে ঘন, তীব্র লাল ত্বকের প্যাচ সৃষ্টি হয়,এবং সেগুলো প্রায়ই চকচকে আইশের সাথে আবৃত থাকে।

 

 

সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিস পুরুষদের এবং মহিলাদের সমানভাবে আক্রান্ত করে। বেশিরভাগ লোক যারা সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত হয় তাদের প্রথমে ত্বকে চর্ম সোরিয়াসিস, এর পরে বাতের লক্ষণগুলি দেখা যায়। তবে, প্রায় ১৫ শতাংশ ক্ষেত্রে,চর্মের লক্ষণগুলি প্রদর্শিত হওয়ার আগে সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিসের ব্যথা দেখা দিতে পারে।  

সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিস কেন হয়?

  • সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিসের সঠিক কারণ গবেষকরা এখনো সনাক্ত করতে পারেননি। তবে, তারা বিশ্বাস করেন যে এই রোগটি জেনেটিক, ইমিউনোলজিক্যাল এবং পরিবেশগত কারনগুলির সংমিশ্রণে বিকাশিত হয়।
  • জিনগত কারণসমূহ - চর্মের সোরিয়াসিস বা সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত মানুষের প্রায় ৪০ শতাংশের মধ্যে এই ব্যাধির পারিবারিক ইতিহাস রয়ে থাকে। এর অর্থ এই যে, কোনো চর্মের সোরিয়াসিস বা সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিসে আক্রান্তরোগীর আত্বীয়ের এই রোগ বিকাশিত হওয়ার সম্ভাবনা অন্য যেকোন সাধারণ ব্যক্তির তুলনায় প্রায় ৫০ গুণ বেশি। জিনতাত্ত্বিক গবেষকরা কিছু নির্দিষ্ট ক্রোমোসোমের এলাকা (এইচএলএ) চিহ্নিত করেছেন যা সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়া অন্যান্য জেনেটিক কারন এই রোগের তীব্রতাতে বাড়াতে অবদান রাখতে পারে।
  • ইমিউনোলজিক্যাল কারণগুলি -  সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিস রোগীর মধ্যে ইমিউন সিস্টেমের অস্বাভাবিকতাগুলো উল্লিখিত পরিমানে বিদ্যমান
  • পরিবেশগত কারণগুলি - নির্দিষ্ট জীবানুর সংক্রমণের সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিস সৃষ্টিতে অবদান রাখতে পারে। যদিও সেটা শক্তভাবে প্রামাণিত হয়নি। 
  • সোরিয়াসিস চামড়ার যে সকল স্থান ঘনঘন আঘাতপ্রাপ্ত সেখানেও হতে পারে। এইটিকে "কবনার ফেনোমিনা" বলা হয়। কিছু রোগী আহত জয়েন্টের মধ্যে আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত হয়। প্রকৃতপক্ষে, শারীরিক ট্রমা একটি ঝুঁকির কারণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে।

সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিসের লক্ষণ 

  • জয়েন্ট বা গিড়ার ব্যথা
  • সকালে ঘুম থেকে উঠে কোমড়ে ব্যথা, হাটা চলায় সেটা কমে যাওয়া এবং বিশ্রামে আবার সেটা বেড়ে যাওয়া
  • জয়েন্টগুলো সকালে জমে থাকা  (অর্ধেকের বেশী রোগীর সেটা ৩০ মিনিটের বেশি স্থায়ী হয়)
  • স্কিন প্যাচ (প্লেক) যা শুকনো বা লাল হয়, সাধারণত চিলি-সাদা আঁশ দিয়ে আচ্ছাদিত হয়, যার প্রান্তগুলি উঁচু হতে পারে
  • নকের অস্বাভাবিকতা, যেমন নকের মধ্যে ফোটা বা পিটিং, বিবর্ণতা, নকের গোঁড়া থেকে উঠে যাওয়া, ভঙ্গুরতা (আক্রান্ত ব্যক্তিদের শতকরা ৯০ ভাগের এই সমস্যা থাকে)
  • একটি নিদিষ্ট আঙ্গুল সম্পুর্নভাবে ব্যথা ও ফুলে যাওয়া (ডেক্টালাইটিস) যেটিকে সসেজ আঙুল বলা থাকে

সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিসের ধরন

  • আঙ্গুলের শেষ জয়েন্ট আর্থ্রাইটিস (Distal Arthritis)
  • অলিগো-আর্থ্রাইটিস - ২ থেকে ৪ টি জয়েন্ট আর্থ্রাইটিস, এবং সেটি উভয়পাশের একই গিড়া আক্রান্ত করেনা (Asymmetrical Oligoarthritis)
  • পলি-আর্থ্রাইটিস- ৫ বা অধিক জয়েন্ট আর্থ্রাইটিস, এবং সেটি উভয়পাশের একই গিড়া আক্রান্ত করে, এটি রিমটোয়েড আর্থ্রাইটিসের মত লক্ষণগুলি তৈরি করে এবং এই ধরনটি সাধারনত বেশী দেখা যায় (Symmetrical Polyarthritis)
  • আর্থ্রাইটিস মিউটিলেন্স- এই ধরনের গোড়ালি জয়েন্টগুলোকে বিকৃত এবং ধ্বংস করে, এবং এটি প্রায়ই আঙুল বা পায়ের আঙ্গুলকে সংকুচিত করে (Arthritis mutilans)
  • স্পন্ডাইলোআর্থ্রাইটিস- এই ধরনে মেরুদন্ডের জয়েন্টগুলো আক্রান্ত হয় (Spondyloarthritis)

অন্যান্য সমস্যাগুলি - আর্থ্রাইটিসে যেখানে লিগামেন্ট বা মাংসে টেন্ডন হাড়ের সাথে সংযুক্ত হয়ে থাকে সেখানেও প্রদাহ হতে পারে, যেটিকে এন্টেহসাইটিস (Enthesitis) বলা হয়।  সাধারণত গোড়ালির পেছনে অ্যাকিলিসের টেন্ডনের সংযুক্তি (Achilles tendinitis), পায়ের তলার প্লান্টার ফ্যাসিয়ার সংযুক্তির স্থানে প্রদাহ হয়ে থাকে (Plantar faciitis)।এর ফলে সকালে বা বিশ্রামের পর এই স্থানগুলোতে ব্যথা অনুভুত হয়।আর্থ্রাইটিস রোগীরা চোখের দৃষ্টি সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে, এক বা দুই চোখ লাল হয়ে দেখতে অসুবিধা হতে পারে এটা সাধারনত ইউবাইটিস (Uveitis) এর কারনে হয়ে থাকে।সেরিয়াসিসিসের রোগীদের মতো, সোরিয়াসিস আর্থ্রাইটিস রোগীদের হার্ট আট্যাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি হতে পারে; নির্দিষ্ট ওষুধ এবং লাইফস্টাইল পরিবর্তন এই ঝুঁকি হ্রাস করা সম্ভব। 

রোগ সনাক্তকরন

চিকিৎসক রোগের লক্ষন, রোগীর ইতিহাস, পারিবারিক ইতিহাস, রোগীর প্রদাহের বিস্তারিত এবং শারীরিক পরীক্ষা এবং জয়েন্টের এক্স-রে, রক্তের পরীক্ষাদির মাধ্যমে রোগ সনাক্ত করেন। এই ক্ষেত্রে প্রধানত রিউম্যাটোলজিস্ট এবং মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ, ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ শরণাপন্ন হওয়া জরুরী।

সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিসের চিকিৎসা

সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিসের চিকিৎসার মুল উদ্দেশ্য হলো রোগীর গিটের ব্যথা এবং কঠোরতা, পাশাপাশি সোরিয়াসিসের অন্যান্য লক্ষণ উপশম করতে সাহায্য করে রোগীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রার নিশ্চিত করা।

 

  1. ওজন হ্রাস - সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিসের ৪০ শতাংশ রোগীর স্থুলকার বা মেদবহুল। বেশিরভাগ গবেষণায় দেখানো হয়েছে যে ওজন হ্রাস সোরিয়াসিস এবং আর্থ্রাইটিস উভয়ের জন্য চিকিৎসা প্রক্রিয়া উন্নত করতে পারে।
  2. ব্যায়াম এবং শারীরিক থেরাপির - শারীরিক ব্যায়াম এই রোগের জন্য অতন্ত জরুরী, সাঁতার কাটা সবচেয়ে অন্যতম। শুধুমাত্র শারীরিক ব্যায়াম সোরিয়াটিক স্পন্ডাইলোআর্থ্রাইটিস আর্থ্রাইটিসের ব্যথা এবং জমে থাকা অনেকাংশে দূর করতে সহায়তা করে।
  3. ভ্যাকসিনেশন বা টিকাঃ যেহেতু সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিসের রোগের  রোগ নিয়ন্ত্রণকারী অ্যান্টিরিউম্যাটিক ড্রাগ (ডিএমআরডি) ওষুধ সেবন করার প্রয়োজন পড়ে যেটি শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে দমন করে, তাতে করে জীবানুর সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই নিমোনিয়াসহ হেপাটাইটিস বি টিকা গ্রহন করা  সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিসের রোগীর জন্য অতীব জরুরী।
  4. ব্যথানাশক ওষুধ - ননস্টোরিয়াল এন্টিনফ্ল্যামেটরি ড্রাগ (এনএসএআইডি) ব্যথা ও প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং আর্থ্রাইটিসের ব্যথা কমায়। এনএসএআইডিগুলির  প্রদাহনাষক (এন্টিনফ্ল্যামেটরি) প্রভাব পাওয়ার জন্য যথেষ্ট পরিমাণে ও পর্যাপ্ত সময় গ্রহণ করা উচিত। এনএসএআইডি অবশ্যই প্রদাহনাষক  হিসাবে পূর্ণ কার্যকারিতা পেতে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত খাওয়ার প্রয়োজন হয়। যদি এনএসএআইডি  এর প্রাথমিক ডোজটি উপসর্গগুলি উন্নত না করে, তাহলে চিকিৎসক  ধীরে ধীরে ডোজ বৃদ্ধি বা অন্য এনএসএআইডিতে পরিবর্তন করেন। ননস্পেসিফিক এনএসএআইডিসের মধ্যে আইবুপোফেন (Ibuprofen), ডাইক্লোফেনাক (Diclofenac) এবং ন্যাপরোক্সেন (Naproxen), এবং ইন্ডোমেথাসিন (Indomethacin) সিলেক্টটিভ এনএসএআইডি গুলির  (কক্স ২ ইনহিবিটরস নামেও পরিচিত) ব্যথানাশক হিসেবে একিভাবে কার্যকরী যদিও এদের পাকস্থলির প্রদাহ এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টির সম্ভাবনা কিছুতা কম। এদের মধ্যে ইটুরিকক্সিব (Etoricoxib) অন্যতম।
  5. গ্লুকোকোরোটিকিইড (Glucocorticoid) ইনজেকশন - এটি স্টেরয়েড নামেও পরিচিত, এটি  প্রদাহ কমাতে পারে এবং আক্রান্ত জয়েন্টগুলোতে ইনজেকশনের মাধ্যমে ব্যথা উপশম করতে পারে। কিন্ত গিড়া ব্যাতীত মুখে অথবা শিরা বা মাংসে গ্লুকোকোরোটিকোইড সাধারণত সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিস রোগীদের জন্য উপযোগী বলে মনে  করা হয় না কারণ তারা ত্বকের সোরিয়াসিসের তীব্রতা বাড়িয়ে দিতে পারে। সাধারনত স্টেরয়েড পেডনিসলন (prednisolone) মিথাইলপেডনিসলন (Methylprednisolone), ডেফ্লাজিকট (Deflazicort) নামে পাওয়া যায়।
  6. মেথট্রেক্সেট (Methotraxate) - মেথট্রেক্সেট হল একটি রোগ নিয়ন্ত্রণকারী অ্যান্টিরিউম্যাটিক ড্রাগ (ডিএমআরডি) যা ত্বক কোষের অত্যধিক উৎপাদন হ্রাস করে এবং ইমিউন সিস্টেমকেও দমন করতে পারে। এটি প্রায়শ সোরিয়াটিক পলি-আর্থ্রাইটিস রোগী জন্য পরামর্শ করা হয়। এটি সাধারণত প্রতি সপ্তাহে একবার পিল বা ইনজেকশন দ্বারা নেওয়া হয়।  এই ওষুধের কার্যকরী মাত্রা প্রতি সপ্তাহে ২৫ মিগ্রা । উচ্চ মাত্রার এটি চামড়া অধীন ইনজেকশনের মাধ্যমে গ্রহণ করা প্রয়োজন হতে পারে, যা একজন রোগী বা পরিবারের সদস্য দ্বারা করা যেতে পারে।ফোলিক অ্যাসিড বা ফোলিনযুক্ত এসিড গ্রহণ করে নির্দিষ্ট মেথট্রেক্সেটের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলির যকৃতের ক্ষতি সাধন সহ অনন্য ঝুঁকি কমাতে পারে । এছাড়া রোগীর মেথট্রেক্সেট  সেবন অবস্থায় ৬-১২ সপ্তাহ অন্তর রক্তের সিবিসি (CBC), এসজিপিটি (SGPT) এবং ক্রিয়েটিনিন (Creatining) পরিক্ষা করা প্রয়োজন। রোগীর মেথট্রেক্সেট  সেবন অবস্থায়  করে রোগীদের অ্যালকোহল পান না করা উচিত। মেথট্রেক্সেটের সবচেয়ে গুরুতর সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলি হল লিভারের প্রদাহ, ফুসফুসের রোগ এবং অস্থিমজ্জার কার্যক্রম কমে যাওয়া। 
  7. সালফাসালাজিন (Sulfasalazine) - এটিও একটি ডিএমআরডি যা সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিস ব্যথার জন্য কার্যকরী হতে পারে, এই ওষুধের কার্যকরী মাত্রা প্রতিদিন ২-৩ গ্রাম,  সালফাসালাজিন গর্ভবস্থায় সেবন করা নিরাপদ।
  8. লেফনুমামাইড - (Leflunomide) একটিও একটি ডিএমআরডি যা চামড়া এবং আর্থ্রাইটিস রোগ উভয় উপসর্গের উপসর্গ নিয়ত্রণ করতে পারে,  এই ওষুধের কার্যকরী মাত্রা প্রতিদিন ২০মিগ্রা।
  9. সাইলোস্পরিন (Cyclosporine) -এটি ইমিউন সিস্টেমকে দমন করে এবং তীব্র সাইরিসিস এবং সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিসে ব্যবহৃত হয়। সাইলোস্পরিন এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হিসাবে কিডনি ফাংশন এবং উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে।
  10. টিউমার নিকোসিস ফ্যাক্টর ইনহিবিটরস (TNF-I) - টিএনএফ-আলফা ইনহিবিটর বাইলোজিক নামে পরিচিত ওষুধ। এই শ্রেণীর ড্রাগগুলি যেমন ইটানাসেপ (ব্র্যান্ড নাম: এনব্রেল), এডালিমুম্যাব (ব্র্যান্ড নাম: হিউমা), ইনফ্লিক্সিম্যাব (ব্র্যান্ড নাম: রেমিকেড), এবং গোলিমুম্যাব(ব্র্যান্ড নাম: সিম্পোনি) সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিসের জন্য কার্যকরি ওষুধ। যদিও প্রচলিত ডিএমআরডি (Conventional DMARD) যখন অকার্যকর হয়, এই শ্রেণীর এজেন্ট থেকে একটি ঔষধ ব্যবহার করা হয় এবং সেটি প্রায়ই কার্যকর হয়ে থাকে। এই ওষুধগুলি ব্যায়বহুল হলেও আমাদের দেশে সব কটি পাওয়া যাই।বাইলোজিক এজেন্ট, যেমন TNF- I, সাধারণত দ্রুত দুই সপ্তাহের মধ্যে দ্রুত কাজ করে। তারা একা বা অন্য DMARDs, NSAIDs, এবং / অথবা গ্লুকোকোরোটাইজড ইনজেকশন সঙ্গে একযোগে ব্যবহার করা যেতে পারে। যেহেতু এই ওষুষগুলোর ব্যায়বহুল, তাই প্রায়শ প্রচলিত ডিএমআরডি (Conventional DMARD) যেমন মেথট্রেক্সেট বা সালফাসালাজিন সম্পূর্ণরূপে কার্যকারী না হলে বা লক্ষণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না তখন এই ওষুষগুলো ব্যবহার করা হয়।
  11. উষ্টিকিনম্যাবের  (Ustekinumab) - উষ্টিকিনম্যাবের নামে একটি ঔষধ কখনও কখনও উল্লেখ্য ওষুধ কার্যকারী না হলে ব্যবহার করা হয়। এই ঔষধটি টিএনএফ ইনহেবিট না করেই প্রদাহ  নিয়ত্রণ করে  আইএল  -১২ এবং আইএল -২৩ নামে আরেকটি প্রোটিন ইনহেবিট করার মাধ্যমে । টিএনএফ ইনহিবিটরসের (TNFi) মতো, এই ড্রাগ ইনফেকশান ঝুঁকি বৃদ্ধি করে এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।
  12. সিকিউনম্যাব (Secukinumab) এবং ইক্সিকিজুম্যাব (ixekizumab) - সিকিউনম্যাব (ব্র্যান্ড নাম: কোস্যান্সটিক্স) এবং ইক্সিকিজুম্যাব (ব্র্যান্ড নাম: টোল্টজ) এমন কিছু ঔষধ যা উষ্টিকিনম্যাবের মত কিছু ক্ষেত্রে টিএনএফ ইনহিবিটরসের (TNFi)  বিকল্প প্রদান করতে পারে। তারা আইএল -17 নামক একটি প্রোটিনের সাথে হস্তক্ষেপ করে ইমিউন প্রতিক্রিয়া প্রভাবিত করে।
  13.  এপ্রিমিলাস্ট (Apremilast) - এপ্রিমিলাস্ট একটি  জন্য নতুন ঔষধ । এটি সোরিয়াসিস এবং সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিস উভয়ক্ষেত্রে কার্যকরী, এটি আমাদের দেশে পাওয়া যায়।
  14. টফাসিটিনিব (Tofacitib)-  টফাসিটিনিব সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিসের চিকিৎসায় কার্যকরী প্রামাণিত হলেও এখনো বৈজ্ঞানিকভাবে সর্বত্র ব্যবহার করার সুপারিশ করা হয় না।যদিও এই মধ্যে আমাদের দেশে এই ঔষধ (ট্যাবলেট) বাজারে পাওয়া যায়। এই ঔষধ ব্যবহারের পূর্বে ভ্যাকসিনেশন বা টিকা এবং সুপ্ত যক্ষা (Latant TB) নির্ণয় এবং সেটির চিকিৎসায় প্রয়োজন হয়। 

 

 

 

 

f t g m

প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী : ডা: মো: হেলাল উদ্দিন

ব্যবহারের শর্তাবলী                                               গোপনীয়তার নীতি