Copyright 2017 - Custom text here

গুটি বসন্তের টিকা আবিষ্কারের চমকপ্রদ কাহিনী

User Rating: 0 / 5

Star InactiveStar InactiveStar InactiveStar InactiveStar Inactive
 

 

গ্রামের সেই গুটি বসন্তে কিছুই হল  না বেঞ্জামিন সাহেবের স্ত্রী - পুত্রদের । 

 

   ছবি: এডওয়ার্ড জেনার

 

 

১৭৭৬ সালের কথা।  ইংল্যান্ডের গ্লস্টারশায়ারের এক কৃষক বেঞ্জামিন জেস্টী গৃহে বসে বসে ভাবছেন গুটি

 

 বসন্তের ভয়ানক পরিণতির কথা। সারা গ্রামে গুটি বসন্তের তান্ডবে শত শত  মানুষ মরছে। এর প্রতিরোধ হিসেবে

 

কোন টিকাও নেই ।

 

শুধু সৃষ্টিকর্তার  কাছে প্রার্থনা করা ছাড়া কিছুই করার নেই মানুষের। 

 

তাঁর সমস্ত চিন্তা তাঁর স্ত্রী - পুত্রের জন্য।  বেঞ্জামিন সাহেব চিন্তা করতে  থাকেন। 

 

তাঁর মনে পড়ে যায়, আগের বছরগুলোতে এলাকার গো - রাখালদের মধ্যে যারা  গো বসন্ত রোগে আক্রান্ত

 

হয়েছিলেনন তাদের কারোই  গূটি বসন্ত রোগ হয়নি। তিনি ভাবতে লাগলেন,  হয়ত এই দুই রোগের মধ্যে

 

যোগাযোগ থাকতে পারে।

 

একবার একটি গ্রামে ব্যাপক ভাবে গুটি বসন্ত রোগের প্রাদুর্ভাব হল। এনা আর মেরি নামের বেঞ্জামিন সাহেবের দুই

 

কর্মচারীর গো-বসন্ত রোগ  হয়েছিল আগে ।তাদের গ্রামের বেশির ভাগ মানুষের গুটি বসন্ত হলেও এই দুই জনের

 

কিছুই হলনা। বেঞ্জামিন সাহেব আর  দেরি করলেন না। স্ত্রী আর পুত্র কে নিয়ে গেলেন এক খামারে যেখানে

 

কিছু গরু গো-বসন্তে আক্রান্ত। গরুর পুঁজ সংগ্রহ করে সাহস করে স্ত্রী পুত্রের শরীরে প্রয়োগ করলেন বেঞ্জামিন সাহেব।

 

 এর ফলে স্ত্রী - পুত্রদ্বয় হালকা গো-বসন্তে আক্রান্ত হল। দুই পুত্র খুব দ্রুত সুস্থ্য হল কিন্তু বেঞ্জামিন সাহেবের

 

স্ত্রী অনেক অসুস্থ্য হলে গেলেন। ভঁয় পেয়ে ডাক্তার নিয়ে আসলেন বেঞ্জামিন সাহেব। আস্তে আস্তে সেরে উঠল

 

 তাঁর স্ত্রী এলিজাবেথ। গ্রামের সেই গুটি বসন্তে কিছুই হল  না বেঞ্জামিন সাহেবের স্ত্রী - পুত্রদের।

 

বেঞ্জামিন সাহেব বুঝতে পারলেন গুটি  বসন্তের টিকা তিনি আবিষ্কার করে ফেলেছেন। গো-বসন্তের পুঁজ মানুষের

 

শরীরে প্রবেশ করানো হলেই সেই মানুষ আর গুটি বসন্তে আক্রান্ত হবে না।  মানব জাতি পেয়ে গেল এক

 

মহা প্রতিরোধ ব্যবস্হা। কিন্তু বেঞ্জামিন জেসটি সাহেবকে তাঁর প্রাপ্য সম্মান কখনই দেয়া হয়নি।

 

 এডওয়ার্ড জেনার বেঞ্জামিন সাহেবের পদ্ধতি ব্যাপক ভাবে মানুষের কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন আর 

 

বিজ্ঞানি আর চিকিৎসকদের এর কার্যকারিতা সম্পর্কে অবহিত করেছিলেন ; ১৭৯৬ সালে তিনি তাঁর মালির পুত্র

 

জেমস ফিপস এর উপর এই টিকা প্রয়োগ করে কার্যকারিতার ফলাফল পান। এর কারনে জেনার

 

সাহেবকেই সম্মানিত করেছে চিকিৎসক সমাজ।

 

আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই বেঞ্জামিন জেস্টি ও এডওয়ার্ড জেনার  তাঁদের উভয়কে মানবজাতিকে সহান সেবা করার জন্য।

 

 

f t g m

প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী : ডা: মো: হেলাল উদ্দিন

ব্যবহারের শর্তাবলী                                               গোপনীয়তার নীতি