Copyright 2017 - Custom text here

স্টেথোস্কোপ আবিস্কারের বিস্ময়কর কাহিনী

User Rating: 0 / 5

Star InactiveStar InactiveStar InactiveStar InactiveStar Inactive
 

 তিনি আশ্চর্যজনকভাবে লক্ষ্য করেন, এ  যন্ত্র দিয়ে হৃদপিণ্ডের স্পন্দন যতটা স্পষ্টভাবে শোনা যাচ্ছে,বুকের উপর সরাসরি কান পেতে ততটা স্পষ্ট কখনো শোনা যায় না !

 

 

চিত্র: স্টেস্কোপ ও হ্রদপিন্ড

 

১৮১৬ সালের কথা।  ফরাসী চিকিৎসা বিজ্ঞানী রেনে থিওফাইল হায়াসিন্থে লেনে এক রোগীর হৃদস্পন্দন পরীক্ষা করে এক আশ্চর্য পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। রোগী অত্যধিক স্থূল হওয়ার কারণে রেনে হাত দিয়ে নাড়ী পরীক্ষা করতে পারছিলেন না। আবার রোগী একজন তরুণী বলে রেনে তার বুকে কান পেতেও পরীক্ষাটি করতে পারছিলেন না। ফলে  এ সমস্যা সমাধানের জন্য তিনি ভাবতে থাকেন। অবশেষে তিনি শব্দবিজ্ঞানেই সমস্যা সমাধানের প্রয়াস নেন। 

তাঁর মনে পড়ে যায় এমন এক সিস্টেমের কথা, যেখানে কাঠের টুকরার এক পাশে কান রেখে অন্য পাশে ধাক্কা দিলে সেই শব্দ স্পষ্টভাবে শোনা যায়। তখন তিনি এক দিস্তা কাগজ রোল করে সিলিন্ডারের মতো বানান এবং কাগজটার এক পাশ রোগীর বুকে রেখে অপর পাশে নিজের কান লাগান।  তিনি আশ্চর্যজনকভাবে লক্ষ্য করেন, এতে করে হৃদপিণ্ডের স্পন্দন যতটা স্পষ্টভাবে শোনা যাচ্ছে, বুকের উপর সরাসরি কান পেতেও ততটা স্পষ্ট কখনো শোনা যায় না ! এর কারণ হল , বায়ু মাধ্যমের চেয়ে কঠিন মাধ্যমে শব্দের বেগ বেশি।

কথিত আছে যে,  এই চিন্তাটা রেনের মাথায় এসেছিলো ছোট শিশুদের খেলা দেখে। ১৮১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে, ঠাণ্ডা এক সকালে ল্যুভর প্রাসাদের আঙিনা দিয়ে হাঁটার সময় পঁয়ত্রিশ বছর বয়সী রেনে দেখেন দুটো বিদ্যালয় পড়ুয়া শিশু একটা লম্বা আর ফাঁপা কাঠ নিয়ে খেলছে। একজন এক প্রান্তে পিন দিয়ে আঁচড় কাটছে, অন্যজন আরেক প্রান্তে কান লাগিয়ে শুনছে। কাঠটি আঁচড়ের শব্দকে অ্যামপ্লিফাই করে অপর প্রান্তে পৌঁছে দিচ্ছে। এছাড়া ধারণা করা হয়, বংশীবাদক হিসেবে রেনের অভিজ্ঞতাও এই চিন্তা জন্মানোর পিছনে ভূমিকা রেখেছে।

রেনের তৈরি প্রথম স্টেথোস্কোপটি ছিল ২৫ সেন্টিমিটার লম্বা আর ২.৫ সেন্টিমিটার প্রস্থ বিশিষ্ট কাঠের ফাঁপা সিলিন্ডার। পরে তিনি তিনটা আলাদা টুকরায় ভাগ করেন এই যন্ত্রকে। এই যন্ত্রের নাম রেনে স্টেথোস্কোপ রেখেছিলেন কারণ Stethos মানে বুক এবং skopos মানে অনুসন্ধান। তবে এই যন্ত্রটি আবিস্কারের শুরুর দিকে তৎকালীন চিকিৎসক সমাজ খুশী মনে গ্রহণ করেনি।

তারপর ১৮৫১ সালের কথা। আর্থার লিরেড নামক একজন প্রথিতযশা বিজ্ঞানী দুই এয়ার-পিস যুক্ত আধুনিক স্টেথোস্কোপ উদ্ভাবন করেন এবং বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের জন্য এটির নকশাকে খুঁতমুক্ত করে তৈরি করেন জর্জ ক্যামান । তখন থেকেই শেষোক্তটি স্টেথোস্কোপের আদর্শ হিসেবে চিকিৎসক সমাজ বিবেচনা করে  আসছেন।

f t g m

প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী : ডা: মো: হেলাল উদ্দিন

ব্যবহারের শর্তাবলী                                               গোপনীয়তার নীতি